মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৭

দুর্লভ আবাসিক পাখি


ছবির পাখিটি বাসার উপকরণ সংগ্রহে ব্যস্ত। উঁচু গাছের ডালের খোলে শুকনো-সরু ডালপালা সাজিয়ে-বিছিয়ে বাসা বানায়। যদিও বাসাটা হয় অগোছালো। বাসা বাঁধার কাজ শুরু করার ৭-১০ দিন আগে থেকে এক জোড়া পাখির পূর্বরাগের পালা বা প্রেমক্রীড়া চলে। পুরুষ বুক ফুলিয়ে আর লেজ-মাথা শৈল্পিক ভঙ্গিতে দুলিয়ে দুলিয়ে বউটিকে কত প্রেম-সংগীত যে শোনায়! এরা ২টি সাদা রঙের ডিম পাড়ে। পালা করে তা দেয় দুজনে। ছানা হয় ১২-১৫ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ২১-২৭ দিনে। অন্য ঘুঘুদের মতো এরাও ছানাদের প্রথম দিকে ৪-৫ দিন ঘুঘুর দুধ পান করায়। তারপর অল্প অল্প করে খাওয়াতে শুরু করে মূল খাবার। খাবার তালিকায় আছে নানান রকম ফল। মিষ্টি বরই এদের খুবই পছন্দ। শুধু ফুল নয়, ফুলের নরম পাপড়ি ও কলিও খায়। বাগেরহাট অঞ্চলে ‘উড়ে আম’ (Bischofia javanica) একটি গাছ বেশ সুলভ, ওই গাছের ফলের আকৃতি যেমন অনেকটাই আঙুরের মতো। ওই ফল এই পাখিদের অতি প্রিয়। ‘বলা’ ফলও খেতে ভালোবাসে খুব। এই গাছটিও বাগেরহাটে সুলভ। বন্দুকধারী শিকারিরা এবং আদিবাসী গোষ্ঠীর তির-ধনুকধারীরা এদের শিকার করে। আঠার ফাঁদেও আটকায়। তবে ওদের শিকার করা মোটেই সহজ কাজ নয়। অতিশয় হুঁশিয়ার এরা। মুহূর্তের মধ্যে গাছের ডালে বসে স্টিল যেমন হতে জানে, তেমনি ঝট করে উড়াল দিয়ে পালাতেও পারে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন